ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন অনুষ্ঠান শনিবার রাজধানী তেহরানে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভোর থেকেই রাজধানীর গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে লাখো মানুষ সমবেত হন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনে শুধু তেহরানেই দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে।
জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিন গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আনা হলে শোকাহত মানুষের কান্না ও স্লোগানে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। কফিনের ওপর রাখা ছিল তাঁর ব্যবহৃত কালো পাগড়ি। একই হামলায় নিহত তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যের মরদেহও সেখানে রাখা হয়। তাদের মধ্যে তাঁর ১৪ মাস বয়সী এক নাতনির ছোট কফিনও ছিল।
শোকানুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই হাজার হাজার মানুষ গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। শনিবার সকালে ফটক খুলে দেওয়া হলে মুহূর্তেই বিশাল প্রাঙ্গণ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
শোকমিছিলে অংশ নেওয়া অনেকের হাতে ছিল প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত লাল ব্যানার। এ সময় তারা ‘যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস হোক’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগান দেন।
বার্তা সংস্থা এপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২৭ বছর বয়সী এক শোকাহত ব্যক্তি বলেন, “আমি এখানে আমার প্রিয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে বিদায় জানাতে এসেছি। কখনো ভাবিনি এমন একটি দিন দেখতে হবে। এই ট্র্যাজেডি দেখার আগে যদি আমার মৃত্যু হতো!”
শুক্রবার ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নেতারাও খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অন্যতম মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতে দেখা যায়। একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান আহমদ ওয়াহিদিও।
সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী সোমবার পর্যন্ত খামেনির কফিন তেহরানে রাখা হবে। এরপর শোকমিছিল শেষে মঙ্গলবার মরদেহ নেওয়া হবে কোম শহরে। সেখান থেকে বুধবার প্রতিবেশী ইরাকের বিভিন্ন শহরে জানাজার আয়োজন করা হবে। সবশেষ শুক্রবার উত্তর-পূর্ব ইরানের জন্মশহর মাশহাদে তাঁকে দাফন করা হবে।
সাব্বির, চট্টলা২৪

