বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নির্জনা হত্যা: আদালতে বাবার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

খুলনায় ১৬ বছর বয়সী কিশোরী নির্জনা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তার বাবা আকাশ। রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর বিচারক মো. আসাদুর জামানের কাছে তিনি এ জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে পারিবারিক কলহের জেরে মেয়েকে হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দি করে মোটরসাইকেলে বিভিন্ন স্থানে ঘোরার পর নির্জন স্থানে ফেলে দেওয়ার লোমহর্ষক বর্ণনা উঠে এসেছে।

এর আগে গত ১০ জুলাই নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমাও মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খুলনা থানার এসআই আমিনুল ইসলাম জানান, শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ডুমুরিয়া উপজেলার একটি দোকান থেকে আকাশকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব ও পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন এবং আদালতে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে রাজি হন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুলাই সকালে নির্জনা তার স্বামীর সঙ্গে চলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে ফিরিয়ে আনেন। ওইদিন বিকেলে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নির্জনা তার মায়ের গায়ে হাত তোলেন এবং মাকে গলা টিপে ধরেন। এ সময় বাবা আকাশ কাঠের চেলা দিয়ে তাকে শাসন করতে গেলে সেটি দুর্ঘটনাবশত নির্জনার মাথায় লাগে।

পরে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত নির্জনার মৃত্যু হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মরদেহ গুম করতে আকাশ কালো লুঙ্গি দিয়ে মেয়ের মরদেহ বেঁধে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে দোতলা থেকে নিচে নামান। এরপর মোটরসাইকেলে মরদেহ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে থাকেন। কোথায় মরদেহ ফেলা হবে তা ঠিক করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত শহরতলির প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি নির্জন সড়কে মরদেহটি ফেলে দেন তিনি।

বাড়ি ফিরে মা-বাবা মিলে ঘরের রক্ত পরিষ্কার করেন। রাতে তারা কান্নাকাটি করেন এবং পরদিন সকালে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

খুলনা সদর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বস্তাবন্দি ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের পর প্রথমদিকে নিহতের পরিচয় বা হত্যাকাণ্ডের কোনো সুনির্দিষ্ট সূত্র পাওয়া যাচ্ছিল না। এমনকি পিবিআই ও সিআইডির মতো বিশেষায়িত সংস্থাও প্রথমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি।

ঘটনার দিন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিহত কিশোরীর ছবি প্রকাশ করা হলে পরদিন বিকেলে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। তদন্তে নিহতের মা-বাবার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে মা সীমাকে থানায় আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য স্বীকার করেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার ছয় দিন পর হত্যাকাণ্ড ও মরদেহ বহনে ব্যবহৃত আকাশের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এর দুই দিন পর ডুমুরিয়া থেকে আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কিশোরী নির্জনার বস্তাবন্দি ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি খুলনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার পর থেকেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত চালিয়ে আসছিল।

ফারুক, চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...