চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নতুন মেয়র হিসেবে চট্টগ্রামে ফিরেছেন ডা. শাহাদাত হোসেন।
মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বেলা ১২টা ১২ মিনিটের দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সোনার বাংলা ট্রেনযোগে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে এসে পৌঁছলে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে গিয়ে নেতাকর্মীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও স্লোগানে স্লোগানে বরণ করে নেন।
সকাল ১১টা থেকে নগরীর পুরাতন স্টেশন চত্বরে লোক সমাগম হতে থাকে এবং দুপুর ১২টার পর তা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে দলে দলে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা থেকে নেতাকর্মীরা এসে জড়ো হন। ১২টা ৫০ মিনিটে চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেন সমাবেশস্থলে গিয়ে পৌঁছান। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের ‘বীর চট্টলার মাটি, শাহাদাত ভাইয়ের ঘাঁটি, শাহাদাতের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’-সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
এ সময় চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, নগর পিতা হিসেবে নয়, আমি ৭০ লাখ মানুষের নগরসেবক হিসেবে থাকতে চাই। সব বর্ণ, ধর্ম, জাতির নাগরিক যারা এ চট্টগ্রাম শহরে বাস করছে তাদের পাশে থেকে আমি কাজ করে যেতে চাই। আমি আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি। আমি আপনাদের ঋণ কখনো শোধ করতে পারব না। আমি আপনাদের সন্তান। এ শহর আমার একার নয়। এ শহর ৭০ লাখ মানুষের। চট্টগ্রামকে সুন্দর শহর গড়ে তুলতে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি। ক্লিন, গ্রিন ও হেলদি সিটি গড়ে তুলব এ শহরকে। আমাকে একটু সময় দিন। আমার দেওয়া কথা আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করব।
তিনি বলেন, আমি মহানগরে গত ১৮ বছর বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছি। গত ১৮ বছর আপনারা বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘরে থাকতে পারেননি। পরিবারের খোঁজ নিতে পারেননি। অনাহারে দিন কাটিয়েছেন। এ অসহায়ত্ব আমি দেখেছি। সারা বাংলাদেশে ৬০০ এর অধিক বিএনপি নেতাকর্মী গুম হয়েছে। চট্টগ্রামসহ সারা দেশে এক লাখ মামলায় ৬০ লাখ মানুষ আসামি হয়েছে। তবুও আপনারা বিএনপির আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইসিটি মামলা দিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হনন করা হয়েছিল। তবুও গণমাধ্যম বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলার খবর ছাপিয়েছে। গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানাই।
তিনি রেলস্টেশন থেকে হযরত আমানত শাহ এবং হযরত বদর শাহ (রহ.) এর দরগাহ জেয়ারত করেন। এরপর তিনি সিটি করপোরেশনের নতুন ভবনে (লালদীঘির পাড়) একটি মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। পরে সেখানেই সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।
সেখান থেকে বাদে আসর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে যান। সেখানে খতমে কোরআন ও খতমে গাউছিয়া শেষে মোনাজাতে অংশ নেন। পরে সেখান থেকে বাসায় ফিরেন। আর পরদিন থেকে নিয়মিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে অফিস করবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, চসিকের নতুন মেয়রের আগমনকে ঘিরে মেয়রের কক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। মেঝেতে বিছানো হয়েছে নতুন ফ্লোরমেট। মেয়রের জন্য বসানো হয়েছে নতুন চেয়ার। ফুলের টবসহ ইন্টেরিয়র ডিজাইনে কিছুটা বাহ্যিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এছাড়া নগর ভবনে আয়োজন করা হয়েছে খতমে কোরআন ও খতমে গাউছিয়া।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন পান ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে ওই বছরের ২৪ ফেব্রুযারি নির্বাচনীট্রাইব্যুনালে রেজাউল করিমসহ ৯ জনকে বিবাদী করে মামলা করেছিলেন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। আদালত গত ১ অক্টোবর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী শাহাদাত হোসেনকে জয়ী ঘোষণা করেন। ওইদিন আদালত ১০ দিনের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করতে সরকারকে নির্দেশ দেন। আদালতের এ রায়ের ৮ দিনের মাথায় গত ৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনার সচিব শফিউল আজিম এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।

