মানিকগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর মো. আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। টেন্ডার জালিয়াতি, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, সরকারি নথি ফাঁস, এবং অবৈধভাবে সম্পদ সংগ্রহের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন বলে জানা গেছে।
২০০৪ সালে মানিকগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগে যোগ দেওয়ার পর থেকে একই স্থানে থেকে আতিক দুর্নীতির শক্ত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। স্থানীয় ঠিকাদাররা অভিযোগ করেছেন, আতিকের সিন্ডিকেটকে বাদ দিয়ে টেন্ডারে অংশ নেওয়া প্রায় অসম্ভব। তার প্রভাব এতটাই বিস্তৃত যে, কর্মকর্তারা পর্যন্ত তার কার্যকলাপে অসহায়।
তদন্তে জানা গেছে, টাঙ্গাইলে আতিকের নামে ৫০ লাখ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট, ২৫ কাঠা জমি, ব্যাংকে কোটি টাকার এফডিআর, শেয়ারবাজারে কোটি টাকার বিনিয়োগ এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ রয়েছে। এসব সম্পদ তার স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনের নামে রাখা হয়েছে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের ছত্রছায়ায় আতিক একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি টেন্ডার বাবদ ঠিকাদারদের থেকে তিনি ৫ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ নিতেন। যারা এতে আপত্তি করতেন, তাদের টেন্ডার বাতিল করে নিজের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতেন।
সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু ঠিকাদার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্ব নাথ বণিকের সহযোগিতায় আতিক এখনো অপ্রতিরোধ্য। তাদের নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেট দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার ও সাধারণ জনগণ।
ডেক্স রিপোর্ট/ইমন দাশ

