চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে মালবাহী লাইটার জাহাজ এমভি-আল বাখেরার সাতজন কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আকাশ মণ্ডল ওরফে ইরফানকে বাগেরহাটের চিতলমারী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আকাশ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়া এবং মাস্টার গোলাম কিবরিয়ার দুর্ব্যবহারের কারণে ক্ষোভ থেকে তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।
র্যাবের উপ-অধিনায়ক মেজর সাকিব হোসেন জানান, ২২ ডিসেম্বর রাতে আকাশ খাবারের মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে সহকর্মীদের অচেতন করেন। রাত সাড়ে তিনটার দিকে মাস্টার গোলাম কিবরিয়াকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে হত্যা করেন এবং গ্রেপ্তার এড়াতে একে একে বাকি কর্মীদেরও হত্যা করেন।
ঘটনার পর আকাশ নিজেই জাহাজ চালিয়ে মাঝিরচর এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে জাহাজটি চরে আটকা পড়লে পাশের একটি ট্রলারে চড়ে পালিয়ে যান।
র্যাব জানিয়েছে, অভিযুক্তের কাছ থেকে ঘুমের ওষুধের খালি পাতা, রক্তমাখা একটি নীল জিন্স, হ্যান্ড গ্লাভস, লোটো ব্যাগ এবং নিহতদের ব্যবহৃত মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২৩ ডিসেম্বর দুপুরে চাঁদপুরের হাইমচর এলাকায় কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও দুইজন মারা যান। নিহতরা হলেন মাস্টার গোলাম কিবরিয়া, গ্রিজার সজিবুল ইসলাম, লস্কর মাজেদুল ইসলাম, শেখ সবুজ, আমিনুর মুন্সী, ইঞ্জিন চালক সালাউদ্দিন এবং বাবুর্চি রানা কাজী। সুকানি জুয়েল বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন।
ডেস্ক রিপোর্ট/চট্টলা২৪

