শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জুলাই বিপ্লবে প্রেম, অতঃপর বিয়ে

চট্টলা২৪ ডেস্ক: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনই বদলে দিলো দুটি জীবনের গল্প। বরগুনার মীর রিজন মাহমুদ নিলয় এবং ফৌজিয়া তাসনীন আনিকার পরিচয় হয়েছিল এই আন্দোলনের মঞ্চে। প্রথমে ভালো লাগা, পরে ধীরে ধীরে রূপ নেয় গভীর ভালোবাসায়। অবশেষে, শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে বিয়ের পিঁড়িতে বসে তারা তাদের প্রেমের পূর্ণতা দেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার এই আন্দোলন শুধু নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকেই সামনে আনেনি, বরগুনার মাটিতে একটি নতুন সম্পর্কেরও জন্ম দিয়েছে। আন্দোলনের পেছনে সহস্র মানুষের ত্যাগ আর আত্মত্যাগের মাঝে, নিলয় ও আনিকা খুঁজে পেয়েছেন জীবনের সঙ্গী। তবে দেশের কল্যাণে যেকোনো প্রয়োজনে আবারও ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুত থাকবেন বলে জানান এই নবদম্পতি।

গেলো ৫ আগস্ট থেকে তাদের ভালো লাগার শুরু, যা ৭ আগস্ট ভালোবাসায় রূপ নেয়। পরবর্তীতে, ২৫ আগস্ট তারা তাদের সম্পর্কের কথা পরিবারকে জানান। উভয় পরিবারের সম্মতিতে এই সম্পর্ক পরিণয় পায়, এবং শেষ পর্যন্ত প্রেম হয়ে ওঠে প্রণয়।

মীর রিজন মাহমুদ নিলয় বলেন, আনিকার সঙ্গে আন্দোলনের মাধ্যমেই পরিচয় হয়। এমনিতে ওকে আগে দূর থেকে চিনলেও কখনও কথা হয়নি। আন্দোলন চলাকালে সবার সঙ্গেই আমার কথা হত। সবাইকে সাহস দিয়ে আন্দোলন বেগবান করার জন্য বলতাম। এ কারণেই ওর সঙ্গে আমার কথা বলা শুরু হয়। তবে ওই সময়ে আমাদের কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। গত ৫ আগস্ট যখন একত্রে বিজয় মিছিলে আনন্দ উল্লাস করছিলাম তখন আমাদের মধ্যে ভালো লাগা শুরু হয়।

ফৌজিয়া তাসনীন আনিকা বলেন,আন্দোলনের সময় নিলয়ের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। ওই সময় আন্দোলন নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে কথা হত। তখন সাহস এবং সততা দেখে নিলয়ের ওপর আমি দুর্বল হই। যেখানে ওর আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে অনেকেই বর্তমান নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের মতামতের বিরুদ্ধে গিয়ে আমাদের সঙ্গে আন্দোলন করেছে। এ ছাড়াও অন্য একটি সংগঠন তাদের ব্যানারে নিলয়কে আন্দোলনে অংশ নিতে বললেও সে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গেই আন্দোলনে যুক্ত হয়। ওর ওপর দুর্বল হওয়ার মূল কারণই হচ্ছে এমন সততা। পরবর্তীতে গত ৫ আগস্ট বিজয় মিছিলে আমার প্রতি আলাদা কেয়ার দেখে ওর প্রতি দুর্বলতা আরও বেড়ে যায়। পরে ৭ আগস্ট আমাকে প্রেমের প্রস্তাব না দিয়ে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দেন নিলয়।

বিশেষ কি কারণে আনিকাকে ভালো লেগেছে জানতে চাইলে নিলয় বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার যে সাহসিকতা ওর মধ্যে ছিল এটি আমাকে মুগ্ধ করেছে। ওই সময়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে সাহস নিয়ে আন্দোলনে নেমে যে দেশকে ভালোবাসতে পারে সে মানুষকেও ভালোবাসতে পারে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে আনিকা বলেন, আমরা এখনও শিক্ষার্থী। আমাদের প্রথম পরিকল্পনা হচ্ছে আমাদের একত্রে সফল হতে হবে। আমরা দুজনে একত্রিত থেকে সামনের দিকে এগিয়ে যাব। এ ছাড়া এখানও নিষিদ্ধ সংগঠনের অনেকে বলে আমরা কীভাবে আন্দোলনে গেলাম। আমার কথা হচ্ছে যদি একটি দল অন্যায় করে, সে অন্যায়কে সাপোর্ট দেয়া কি আমার দেশকে ভালোবাসা? অবশ্যই না। আমরা সবসময় নিরপেক্ষ থেকে দেশকে ভালোবাসবো। কোনো দল অথবা বর্তমান যে সরকার রয়েছে তারাও যদি কোনো ভুল করে আমরা তারও বিরুদ্ধে যাব, শুধু মাত্র দেশের জন্য।

এ আর ইমন/চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...