বাবার কুলখানিতে অংশ নিতে বাড়িতে এসেছিলেন যুবদল নেতা তৌহিদুল ইসলাম। কিন্তু অনুষ্ঠানের আগের রাতেই যৌথবাহিনীর পরিচয়ে তাকে তুলে নেওয়া হয়। পরদিন সকালে তার মৃত্যুর খবর আসে।
গত ৩০ জানুয়ারি রাতে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবি ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলামকে যৌথবাহিনী আটক করে। পরিবারের দাবি, নির্যাতনের ফলে তার মৃত্যু হয়েছে, কারণ মরদেহে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তারা জানান, বাবার কুলখানিতে যোগ দিতে গ্রামে আসার পর বৃহস্পতিবার রাতে সেনাবাহিনীর তিনটি গাড়ি ও একটি লাল রঙের গাড়ি এসে তাকে আটক করে। অভিযোগ ছিল, তার কাছে অস্ত্র রয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হলেও তাকে তুলে নেওয়া হয়।
পরদিন ৩১ জানুয়ারি সকালে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। দুপুরে পুলিশ ফোন করে জানায়, শহরতলীর গোমতী নদীর পাড়ে তাকে আহত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পরে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, মরদেহে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
এই মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক সাইয়েদ আবদুল্লাহসহ অনেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোও প্রতিবাদ জানিয়েছে। নিহতের স্ত্রী ইয়াসমিন নাহার বলেন, তার স্বামী কোনো অপরাধ করেননি, তাহলে কেন তাকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হলো? চারটি মেয়ে ছোট, তিনি তাদের নিয়ে কীভাবে বাঁচবেন?
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি জানান, যৌথবাহিনী কী কারণে তাকে আটক করেছিল, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানে না। তৌহিদুলের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা ছিল না। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ারুল হক জানান, তৌহিদুল রাজনীতির পাশাপাশি একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন এবং তার দুই মেয়ে কোরআনের হাফেজ। তিনি বলেন, যদি কোনো অভিযোগ থাকত, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেত। আমরা এই মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।
ই ডি

