বাংলাদেশে ক্যানসারের কারণে প্রতি বছর মোট মৃত্যুর ১২ শতাংশ ঘটে। প্রতি লাখে গড়ে ৫৩ জন নতুন ক্যানসার রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের গবেষকরা জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যানসার রেজিস্ট্রি থেকে এ তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিএসএমএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের অডিটরিয়ামে ‘বাংলাদেশে ক্যানসারে বোঝা: জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যানসার রেজিস্ট্রি থেকে প্রমাণ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। গবেষণাটি ২০২৩ সালের জুলাই মাসে কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলায় পরিচালিত হয় এবং ওয়েব-ভিত্তিক জাতীয় ক্যানসার রেজিস্ট্রি সফটওয়্যার ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি লাখে ১০৬ জন ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন, যেখানে পুরুষদের হার লাখে ১১৮ জন এবং নারীদের লাখে ৯৬ জন। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ৪৬,৬৩১টি পরিবারের দুই লাখ ১ হাজার ৬৬৮ জন মানুষের মধ্যে ৩৮ ধরনের ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে।
ক্যানসার রোগীদের মধ্যে ৯২.৫ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৭৫ বছরের মধ্যে, ২.৪ শতাংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে এবং ৫.১ শতাংশের বয়স ৭৫ বছরের বেশি। শীর্ষ পাঁচটি ক্যানসারের মধ্যে স্তন ক্যানসার (১৬.৮ শতাংশ), ঠোঁট ও মুখগহ্বরের ক্যানসার (৮.৪ শতাংশ), পাকস্থলীর ক্যানসার (৭ শতাংশ), কণ্ঠনালীর ক্যানসার (৭ শতাংশ) এবং জরায়ু ক্যানসার (৫.১ শতাংশ) রয়েছে।
নারীদের মধ্যে ১৯ শতাংশ প্রজনন অঙ্গের ক্যানসারে আক্রান্ত, যার মধ্যে জরায়ু ক্যানসার ১১ শতাংশ, ডিম্বাশয়ের ক্যানসার ৫ শতাংশ এবং গর্ভাশয়ের ক্যানসার ৩ শতাংশ।
ক্যানসার রোগীদের মধ্যে অনেকেই অন্যান্য রোগেও আক্রান্ত ছিলেন, যেমন উচ্চ রক্তচাপ (১৭ শতাংশ), ডায়াবেটিস (১১ শতাংশ), হৃদরোগ (৬ শতাংশ), ক্রনিক কিডনি রোগ (৩ শতাংশ) এবং স্ট্রোক (২ শতাংশ)। পুরুষ ক্যানসার রোগীদের ৭৫.৮ শতাংশ ধূমপায়ী ছিলেন, আর ৪৬ শতাংশ রোগী কোনো ধরনের তামাক সেবন করেননি।
৬০ শতাংশ ক্যানসার রোগী অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির মতো একাধিক চিকিৎসা নিয়েছেন, তবে ৭.৪ শতাংশ রোগী ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পরও কোনো চিকিৎসা পাননি।
২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৩,৪১১টি পরিবারের ৫৮,৫৩৯ জন অংশগ্রহণকারীকে ফলো-আপ করা হয়েছে। নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত শীর্ষ তিনটি ক্যানসার হলো ফুসফুসের ক্যানসার (১৬.১ শতাংশ), যকৃতের ক্যানসার (১২.৯ শতাংশ) এবং কণ্ঠনালীর ক্যানসার (১২.৯ শতাংশ)। গবেষকরা মনে করেন, ক্যানসার রেজিস্ট্রি টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা উচিত।
ই ডি

