বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম নুরুকে চট্টগ্রামের চন্দনপুরা পশ্চিমগলির বাসা থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয় ২০১৭ সালের ২৯ শে মার্চ। সেই থেকে দীর্ঘ সাত বছর অপেক্ষা করার পর নুরুল আলম নুরুল স্ত্রী সুমি আক্তার চট্টগ্রামের চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহারে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে চট্টগ্রামের রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীকে।
মামলায় রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির প্রাক্তন ইনচার্জ এসআই জাবেদ ও নোয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল মিয়াসহ ১৭ জনকে চিহ্নিত করে আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও ৩০-৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নুরুল আলম নুরুর পরিবার।
তারা জানান, নিহত নুরুল আলমের স্ত্রী সুমি আক্তার বাদী হয়ে রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার থানায় নুরু হত্যার ঘটনায় মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে বলা উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালের ২৯ মার্চ রাত পৌনে ১২টার সময় দুইজন পুলিশের পোষাক পরিহিতসহ অন্যান্য আসামিরা নগরের বাসা থেকে সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে নুরুল আলম নুরুকে তুলে নেয়। ওইদিন রাতেই তাকে চোখ-মুখ বেঁধে, শারীরিক নির্যাতন ও মাথায় গুলি করে হত্যা করে বাগোয়ান ইউনিয়নের কর্ণফুলী নদীর তীরে ফেলে যায় সন্ত্রাসীরা।
পরদিন ৩০ মার্চ পুলিশ নুরুলের লাশ উদ্ধার করে।
মামলায় চিহ্নিত আসামিরা হলেন- টাইগার নাসের, মো. লিটন, তৈয়ব, ফরিদ, মামুন, আবু জাফর রাশেদ, ইয়ার মোহাম্মদ বাছইন্না, সেকান্দর, জসিম, খালেক, বাবুল, মো. রব্বানি, হাসান মোহাম্মদ নাসির, মো. মোর্শেদ।
এ বিষয়ে নুরুল আলম নুরু’র ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত সাংবাদিক ওয়াহিদ জামান বলেন, কোন কারণ ছাড়াই ২০১৭ সালের ২৯ শে মার্চ রাত ১২টার দিকে চট্টগ্রামের চকবাজার থানাধীন চন্দনপুরার পশ্চিম গলির বাসা থেকে পরিবারের সদস্যদের সামনে থেকে ১০-১২ জন পুলিশ পরিচয়ে নুরুল আলম নুরুকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নিয়ে যায়। রাউজান নোয়াপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই জাবেদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ২-৩ জন পোশাকধারী এবং ৮-৯ জন ছিল সাদা পোশাকের। পরদিন ভোরে কর্ণফুলী নদীর পাড়ে দুই হাত ও পা রশি দিয়ে বাঁধা ও মুখে কাপড় ঢোকানো অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। আমরা যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছি তখন তার মাথায় গুলি ও সারা শরীরে জখমের চিহ্ন দেখা গিয়েছিল । পুলিশের এসআই জাবেদের সহযোগিতায় অত্যান্ত পরিকল্পিত ভাবে রাউজানের তৎকালীন এমপি ফজলে করিমের নির্দেশে নির্যাতন চালিয়ে ও মাথায় গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়েছিলো। ‘
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ২১ শে অক্টোবর পুলিশের হেফাজতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এই নেতাকে হত্যার অভিযোগ এনে মামলার আবেদন খারিজ করে দেয় চট্টগ্রামের একটি আদালত। রাউজান থানার সাবেক ওসি কেফায়েত উল্লাহ ও উপপরিদর্শক শেখ মো. জাভেদের বিরুদ্ধে নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩-এর ১৩ (১), ৫ (২), ৪ (১) (ক) ও ১৫ (২) ধারায় অপরাধ আমলে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছিলেন বাদী সুমি আক্তার। এছাড়া ২০১৭ সালে চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার আদালতে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা মিজানুর রহমান আরেকটি মামলার আবেদন করেছিলেন।

