রংপুরের পীরগঞ্জে দেলোয়ারা বেগম (৩০) নামে এক নারীর বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধারের পর তার মেয়ে সাইমার (৫) মরদেহও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার চতরা ইউনিয়নের বড় বদনাপাড়া গ্রামে মাটি খুঁড়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বড় বদনাপাড়া গ্রামের শিমক্ষেত থেকে পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে। পরে রংপুর সিআইডির ক্রাইমসিন ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিশ্চিত করে যে মরদেহটি নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার পশ্চিম গোলমুন্ডা ফকিরপাড়া গ্রামের মৃত রবিউল ইসলামের মেয়ে দেলোয়ারা বেগমের।
মরদেহ উদ্ধারের পর মাথাটির সন্ধানে পুলিশ অভিযান চালায়। তদন্তের অংশ হিসেবে শনিবার সকালে বড় বদনাপাড়া গ্রামের মুনছুর আলীর (তারা মণ্ডল) ছেলে আতিকুর রহমানকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আতিকুর হত্যার দায় স্বীকার করলে তাকে নিয়ে পুলিশ করতোয়া নদীর টোংরারদহ এলাকা থেকে দেলোয়ারার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করে।
পরবর্তীতে পুলিশের কাছে সে স্বীকার করে যে, নিহত দেলোয়ারার মেয়ে সাইমাকেও হত্যা করেছে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ রোববার আতিকুরের বাড়ির পশ্চিম পাশে মাটির নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
শিশু সাইমার মরদেহ উদ্ধারের পর গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা ঘাতক আতিকুরের বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ ফারুক বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস। এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আমরা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিখুঁতভাবে চালিয়ে যাচ্ছি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।”
ই ডি

