মিরসরাই প্রতিনিধি ::
মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের পরাগলপুর গ্রামের কোরবান আলী সওদাগরের ছেলে রমজান আলী বাচ্চু। দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে প্রবাস ফেরত বাচ্চু মিয়া ১২ বছর আগে ছোট পরিসরে চালু করে পোল্ট্রি খামার।এরপর পোল্ট্রি খামারের সফলতার দেখা ফেলে কয়েকটি এনজিও থেকে কিস্তিতে ঋণ নিয়ে শুরু করেন গরু মোটাতাজা।প্রথম দিকে ৫ টি গরু দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে তার খামারে গাভী সহ ৩০ টির মত গরু রয়েছে।
মিরসরাইতে বন্যা শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগেও ২ হাজার ব্রয়লার মুরগী উঠানো হয় কিন্তুু বন্যার পানি অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার পর সব মুরগি মারা যায়।এ ছাড়াও খামার থেকে গরু নিরাপদ স্থানে নিয়ে গেলেও ১ টি দুগ্ধজাত গাভী ঠান্ডা জনিত কারণে মারা যায়।এ ছাড়াও ক্ষতি হয় লাখ টাকার খড়,শেট, গরুর ঘর,মাছের প্রকল্প,মাল্টা বাগান। বন্যায় বেঁচে থাকার শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন খামারী রমজান আলী বাচ্চু। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
পরাগলপুরের স্থানীয় বাসিন্দা আবুল বশর বলেন, ‘আমাদের এখানে বন্যার সময় রাস্তায় প্রায় ৪-৫ ফুট পানি উঠেছে। বেশির ভাগ মানুষের ক্ষতি হয়েছে।বাচ্ছুর মুরগী ও গরুর খামারের অনেক ক্ষতি হয়েছে।
খামারী রমজান আলী বাচ্চু বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে। কয়েকটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছি, কিস্তি দেওয়ার সময় হয়ে গেছে। অথচ আমি আজ কয়েক দিন ভালো করে খেতেও পারছি না। সংসার ও ব্যবসা সচল করতে পুঁজি কোথায় পাব সেটাও বুঝতেছি না।উপজেলা প্রাণীসম্পদে জানিয়েছি কিন্তু এখনও কোনো সহায়তা পাইনি।সরকারি কোন প্রনোদনা পেলে হয়তো কিছুটা ক্ষতি লাঘব হতো।
উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ জাকিরুল ফরিদ বলেন, ‘ এ বন্যায় মিরসরাইয়ে অনেক খামারী ক্ষতিগ্রস্থ,আমরা সবার তথ্য সংগ্রহ করছি।রমজান আমী বাচ্চুর পোল্ট্রি ও গরু মারা যাওয়ার বিষয়টাও অবগত রয়েছি।’

