বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে ‘মেরিন দুষ্ট চক্র’

চট্টগ্রাম বন্দরকে অস্থিতিশীল করতে কাজ করতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। দীর্ঘ সতের বছর চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ন্ত্রণ করে আসা এই সিন্ডিকেট বন্দরে তাদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মরিয়া। শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের অসন্তোষকে পুঁজি করে চট্টগ্রাম বন্দর অস্থিতিশীল করে তুলতে চায় একই সিন্ডিকেট ; যারা গত ১৭ বছর বন্দর নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সমুদ্রগামী জাহাজে নাবিকদের অত্যাবশ্যকীয় ধারাবাহিক অব্যাহতি পত্র বা CDC নিয়ে নানা অনিয়ম চালায় চক্রটি। এই চক্রের মূল হোতা  চিফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। সুত্রমতে, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কর্মরত আছেন শিপিং মাস্টার জাকির হোসেন এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের আওয়ামী নিয়োগপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন মোঃ আনাম চৌধুরী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মেরিন কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশী নাবিকদের জন্য পানামা সিডিসি পাওয়া অনেকটা সহজ এই সুযোগে কাজে লাগিয়েছে গিয়াস আনাম সিন্ডিকেট। বাংলাদেশ হতে CDC প্রাপ্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে জটিল করে ভুয়া সার্টিফিকেট প্রিন্ট দিয়ে অবৈধ পন্থায় শতাধিক বাংলাদেশীকে দুর্নীতির মাধ্যমে সিডিসি সার্টিফিকেট প্রদান করেছে এই সিন্ডিকেট । বিগত সরকারের ক্ষমতাসীন মন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত ফারুক খান, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং সাবেক আইজিপি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) মনিরুল ইসলামের সাথে সখ্যকে ভর করে এই সিডিসি সার্টিফিকেটের একটি চক্র গড়ে তোলেন। অন্যদিকে ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী চাকরির সুবাদে আইএমও এর সাথে সুসম্পর্ক থাকায় আইএমও তে চাকরিরত জন লেসন এর মাধ্যমে শিপিং এজেন্টদের উপর চাপ প্রয়োগ করেন। শিপিং এজেন্টরা এসমস্ত ভুয়া সার্টিফিকেটধারী নাবিকদের জাহাজে তুললে তারা অনেকেই বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যান, ফলে জাহাজ মালিককে মিলিয়ন ডলার জরিমানা গুনতে হয়।

খাত সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিভিন্ন দেশের জাহাজ মালিকরা এখন বাংলাদেশি নাবিকদের নিতে চাচ্ছে না এবং দেশ প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স হারাচ্ছে।  সরকার পতনের পর ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী আবারো যোগাযোগ করেছেন আইএমও চাকরিরত জন লেসনের সাথে। বাংলাদেশের মেরিটাইম সেক্টরকে কালো তালিকাভুক্ত করার জন্য।

সুত্রমতে, এই চক্রের অন্যতম কুশীলব ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলম। দুর্নীতি দমন কমিশন ইতিমধ্যেই ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলমসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত তিন কর্মকর্তা হলেন চট্টগ্রাম বন্দর নৌ বিভাগের আওতাধীন এর ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলম মেরিন অংশ এর নির্বাহী কর্মকর্তা আছে মাহমুদ ও মোঃ মহিউদ্দিন।

সংশ্লিষ্ট আরেকটি সুত্র জানিয়েছে,  এই চক্রের সাথে যুক্ত আছেন চিফ ইঞ্জিনিয়ার গোলাম জিলানী। চক্রটি নিজেদের মধ্যে যোগসাজশে নির্দিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অবৈধভাবে অগ্রিম আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে দরপত্র নেয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত সরকারের আমলে, বিগত অর্থবছরগুলোতে কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেই একচেটিয়া দরপত্র দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, মেরিন ওয়ার্কশপ এর দেওয়াই দরপত্রগুলো মূল্যের পরিবর্তে বেশি মূল্য ধরা হয়। ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের হারবার মাস্টার এর দায়িত্ব পালনকালে ফরিদ আলম বরখাস্ত হয়েছিলেন। তবে স্বৈরশাসকের নিয়োগকৃত বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃস্থানীয় সদস্যদের সাথে তার ভালো যোগাযোগ এবং বোঝাপড়া থাকায় পার পেয়ে যান তিনি। কথিত আছে মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স এসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সাখাওয়াত হোসেনের সাথে সুসম্পর্কের কারণে তার বিরুদ্ধে মুখ খোলেননি অনেকেই।

এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন নৌ বাণিজ্য দপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার ক্যাপ্টেন সাব্বির মাহমুদ। মেরিটাইম এন্টি করাপশন নেটওয়ার্ক ২০২১-২২ এর তথ্য মতে, বাংলাদেশের রিপোর্টে ১৫১ টি দেশের ১ হাজার ১৯০ বন্দরের পঞ্চান্ন হাজার ঘটনা উল্লেখ আছে। বাংলাদেশের সার্ভেয়ারা জাহাজে পরিদর্শনে গিয়ে খাদ্য সামগ্রী ও সিগারেট নেন নগত অর্থ আদায় করেন এবং অহেতুক ত্রুটি দেখিয়ে জাহাজ আটকে রাখেন। সুত্রমতে, এই চক্রের মূল হোতা ক্যাপ্টেন সাব্বির।

ক্যাপ্টেন সাব্বিরের বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ। জানা যায়, ঘরে বসে টাকার ভিত্তিতে দেওয়া হয় পরিদর্শন সার্টিফিকেট। বন্দরে জাহাজ এলেই পুষ্ট হয় ক্যাপ্টেন সাব্বিরের পকেট। বাংলাদেশের বন্দর সময়ে বছরে প্রায় এক থেকে দুই হাজার জাহাজ আসে এসব জাহাজরা গড়ে দুই হাজার ডলার করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জাহাজ পরিদর্শনের এসব নথিপত্র নেই নৌ বাণিজ্য দপ্তরে। ২০১৯ সালে এ দপ্তরে দুজন নতুন সার্ভেয়ার নিয়োগ পান ; তারা হলেন ইঞ্জিনিয়ার সার্ভেয়ার মাহমুদুর রহমান এবং নটিক্যাল সার্ভেয়ার মোস্তাফিজুর রহমান। এখানে ইঞ্জিনিয়ার সার্ভেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আরেকজন হলেন রফিকুল আলম। তারা দায়িত্ব নেওয়ার পর পোটস্টেট কন্ট্রোল সার্ভে প্রক্রিয়ার পরিধি নিয়মিতভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের বহিনোঙ্গর পর্যন্ত বিস্তার করেন। ২০২০ সালে ইঞ্জিনিয়ার সার্ভেয়ার মাহমুদুর রহমান একটি স্পিডবোর্ড কিনে তাতে সরকারি লোগো চালিয়ে ব্যবহার করেন, এভাবে বিগত বছরগুলোতে তিনি জাহাজ পরিদর্শন করে আসছেন।

২০২০ সালে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের নৌ বাণিজ্য দপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার পদে তিনি আবেদন করেন কিন্তু যোগ্যতার ঘাটতি থাকায় তার সে আবেদন নাকোচ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ক্যাপ্টেন সাব্বির আহমেদ নিয়োগ পান। নৌ বাণিজ্য দপ্তরের এই চার কর্মকর্তা মিলে নৌ বাণিজ্য দপ্তরকে বানিয়েছেন দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য। মেরিন সেক্টরে ক্যাপ্টেন সাব্বির মাহমুদ তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের ঘনিষ্ঠ ও কাছের মানুষ বলে প্রচারিত ;  এ কারনে দুর্নীতি অনিয়মের পাহাড় গড়লেও  কেউ তাকে ঘাটাতে আসে নি।

অনিয়ম দূর্নীতিকে বৈধ করতে সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু নৌ-পরিষদ’ । পরিষদের সম্পাদক মো: শের শাহ পুরো সিন্ডিকেটকে রাজনৈতিক শেল্টার দেন ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে।

সুত্রমতে,  চট্টগ্রাম বন্দরের নৌ-বিভাগে হারবার মাস্টারের দায়িত্ব থাকা ক্যাপ্টেন জহুরুল ইসলাম এই চক্রের অন্যতম কুশীলব। জহুরুল ইসলাম ছাড়াও সরকারি জাহাজ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন, সি বি এর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নায়াবুল ইসলাম ফটিক, নৌ বিভাগের প্রথম শ্রেণীর মাস্টার ইব্রাহিম সেলিম ও ট্রাফিক বিভাগের ননস্টপ সার্ভিস সেন্টারের সহকারী পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম রনি মিলে গড়ে তোলেন  দুর্নীতির কড়া সিন্ডিকেট।

বঙ্গবন্ধু নৌ পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শের শাহ এর প্রত্যক্ষ মদদে ক্যাপ্টেন জহিরুল ইসলাম ও তার সিন্ডিকেট মিলে গড়ে তোলেন টোকেন বাণিজ্য, টোকেন বাণিজ্যের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বন্দরের অস্বাভাবিক লেনদেন, টোকেন বাণিজ্য ও দুর্নীতির ভাগ বাটোয়ারা চলে যেত তৎকালীন নৌ পরিবহন মন্ত্রীর পকেটে। আরেকটি অংশ চলে যেত মেরিন অফিসার এসোসিয়েশনের সভাপতি আনাম চৌধুরীর পকেটে। জহুরুল ইসলাম সিন্ডিকেটের নাবুল ইসলাম ফটিক কিছুদিন আগে লস্কর পদ থেকে পদোন্নতি পেয়েছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম ১১ বন্দর আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এমএ লতিফের পক্ষে তিনি কাজ করেছেন । এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করছে। এছাড়াও নাইমুল ইসলাম ফটিক বন্দর থানা কমিউনিটি পুলিশদের সাধারণ সম্পাদক এবং বন্দর থানা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক। জানা যায় তিনি চট্টগ্রাম সিটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মহানগর ছাত্রলীগের সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু নৌ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক  মোঃ শের শাহার সাথে তার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এসব রাজনীতিবিদদের সাথে যোগসাজশে এবং মাখামাখিতে ক্যাপ্টেন জহিরুল গড়ে তোলেন অঢেল সম্পদ। দুর্নীতিবাজ এই অফিসার তার বিরুদ্ধে চলা তদন্ত কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে চালছেন কুটচাল। বর্তমানে মেরিটাইম সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার জন্য এবং নিজের জঘন্য কুকর্ম আড়াল করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য ও ঘটনা সাজিয়ে উস্কে দিচ্ছেন অন্য সবাইকে।

চীফ মেরিন ইঞ্জিনিয়ার জাহিদ হাসান

জাহিদ হাসান চীফ মেরিন ইঞ্জিনিয়ার অফিসার অফ ভি-গ্রুপ। ৫ই আগস্ট ছাত্র-গণআন্দোলনে অর্জিত নতুন স্বাধীনতার পর জাহিদ হাসান পুরানো মুখোশ পাল্টিয়ে নিজের চরিত্রের বিপরীতে নতুন রূপ ধারণ করেছেন।  তিনি নিজেকে বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য মেরিন অফিসার হিসেবে দাবি করলেও তার এই চরিত্রের আড়ালে রয়েছে এক ভিন্ন রূপ। ৫ ই আগস্ট এর পর তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের বিভিন্ন সমালোচনা করলেও মূলত তিনি নিজে একজন আওয়ামী ফ্যাসিস্ট। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার শেখ হাসিনা, তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সহ আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের সাথে তার ছিল খুবই ঘনিষ্ঠ মেলামেশা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া স্টাটাসে ‘অভিনন্দন প্রিয় সায়মা ওয়াজেদ পুতুল আপা। আমি আপনাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি ‘  এমন বাণী প্রচার করা কর্মকর্তা বোল পাল্টে বিগত সরকারের সমালোচনায় মুখর।

ফেসবুক স্টাটাস লিখেছেন, ‘ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শারীরিক সুরক্ষা ট্রাস্টের মুক্তা পানি বাজারজাতকরণ, সেটাও আপনারই উদ্যোগ। প্রতিবন্ধীদের দ্বারা পরিচালিত প্রতিবন্ধীদের দ্বারা উৎপাদিত, আপনি প্রতি কাজ করেন, আপনি অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে কাজ করেন, এটা আপন আপা। একমাত্র আপনারই দূরদর্শিতার কারণে আজকে বাংলাদেশের কোন প্রতি অবহেলিত নয়, আজকে প্রতিবন্ধীরা দেশের বোঝা নয়, আজকে প্রতিবন্ধ সম্পদ। প্রতিবন্ধীরাও যে দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে অবদান রা আপনি তা প্রমাণ করে দিয়েছেন মুক্তা পানি ফ্যাক্টরির মাধ্যমে। মুক্তাপানি পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে আবারও প্রাণঢালা অভিনন্দন শুভেচ্ছা।যে যাই বলুক মুক্তা পানি বাংলাদেশের এখন একটা ব্র্যান্ড।’

পুতুলের সাথে এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শারীরিক প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট এর ‘মুক্তা পানি’ নামক পানি বাজারজাতকরণ করায় এবং ২০২৩ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর তার ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ফ্যাসিস্ট সরকারের কন্যা সাইমা ওয়াজেদ পুতুলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে  বিশদ পোস্ট দেন।

যা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সাথে তার এক ঘনিষ্ঠতার  জ্বলন্ত প্রমাণ মুছতে পরবর্তীতে আগস্ট এর নতুন বাংলাদেশে জাহিদ হাসান নিজেকে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বিরোধী বলে উপস্থাপন করা শুরু করেন এবং তারই সুযোগ নিয়ে বিদেশে বসে দেশের চলমান অস্থিতিশীল অবস্থায় মেরিন সেক্টর তথা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনকে আরো অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।

সম্প্রতি মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে দুটি বাংলাদেশি জাহাজ এবং একটি বিদেশি জাহাজে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এই বিস্ফোরণের ঘটনা সমূহ বাংলাদেশের মেরিটাইম সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। এছাড়াও সাবেক সরকারের সহযোগীরা এবং দুর্নীতিবাজরা বর্তমানে বিভিন্ন রকম ষড়যন্ত্রে নিয়োজিত আছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ক্যাপ্টেন সাব্বির মাহমুদ মেরিনার অফিসারদের একটি Whatsapp গ্রুপ “Global Seafearer Community” তরুন মেরিনারদের কে উস্কে দিচ্ছেন সরকারকে অসহযোগিতা করার জন্য। দুর্নীতিগ্রস্ত চিফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন সাব্বির মাহমুদ, ক্যাপ্টেন জহুরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলমসহ আওয়ামী ফ্যাসিস্ট মেরিন ইঞ্জিনিয়ার জাহিদ হাসান, বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন ক্যাপ্টেন এনাম, ইঞ্জিনিয়ার জিলানী, ইঞ্জিনিয়ার সাখাওয়াত হোসেন সহ বেশ কয়েকজন মিলে বিগত সরকারের মদদপুষ্ট, দুরভীসন্ধি কার্যকলাপের মাধ্যমে বাংলাদেশ মেরিন সেক্টর ও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনকে অস্থিতিশীল করার মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে নতুন বাংলাদেশের সকল উন্নয়নমূলক কাজকে বাধাগ্রস্থ করার পাশাপাশি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে দেশের নিরাপত্তার অভাব প্রমাণ করতে আপ্রাণ প্রচেষ্টায় লিপ্ত। বন্দরে বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন শুরু করেছে দুষ্টুচক্র। যা নতুন বাংলাদেশের বৈষম্য দূরীকরণ ও রাষ্ট্রের সংস্কারমূলক কাজে বাধা প্রদান ও রাষ্ট্র গঠনমূলক কাজে সমস্যা তৈরীর পাশাপাশি বিগত সরকারের বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনে কাজ করছে।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের প্রধান দ্বার চট্টগ্রাম বন্দর। প্রায় আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন এই বন্দর প্রাতিষ্ঠানিক বন্দর হিসেবেও ১৩৫ বছর অতিক্রম করেছে। দেশে আরও দুটি বন্দর থাকলেও আমদানি–রফতানি পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নির্ভরতা বেশি।স্বৈরাচার সরকারের এসব দোসরদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে বাংলাদেশের মেরিটাইম সেক্টর।বাংলাদেশের বাণিজ্যের প্রায় ৯৮% সমুদ্রপথে হয়। সমুদ্রপথের এই বাণিজ্য নষ্ট হইলে অর্থনীতি ঝুঁকিতে পড়বে।  ছাত্র-গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভ্যন্তরীণ ও সমুদ্রগামী নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের জোর প্রতিশ্রুতি দিলেও এই খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের অদূরদর্শীতা এবং সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে আর্থিক ক্ষতিসহ বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং সাধারণ মেরিনাররা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।  বর্তমানে বাংলাদেশ মেরিটাইম সেক্টর কে অস্থিতিশীল করার জন্য কাজ করছে বিশেষ এই দেশবিরোধী দুর্নীতি পরায়ন চক্র।

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...

চট্টগ্রামে বিয়ে শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, নারীসহ নিহত ২

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার...