শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

১৮ দিনে রাজস্ব ঘাটতি ১১ হাজার কোটি টাকা

অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে টানা পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ডাকে কলমবিরতি। ১১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হওয়ার পর অচলাবস্থা কাটাতে এবার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদসহ কয়েকজন উপদেষ্টা আলোচনায় বসবেন পরিষদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার কলমবিরতি শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছে ঐক্য পরিষদ।সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সেই সঙ্গে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। সেগুলো হলো—অবিলম্বে জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল; এনবিআর পরামর্শক কমিটির সুপারিশ জনসমক্ষে ওয়েবসাইটে প্রকাশ; এনবিআরের প্রস্তাবিত খসড়া ও কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সুধীসমাজ, ব্যবসায়ী সংগঠন ও প্রত্যাশী সংস্থাসহ সব অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে উপযুক্ত ও টেকসই সংস্কার নিশ্চিত করা।

অথচ আন্দোলনের প্রস্তুতি ও আন্দোলনের জেরে মে মাসের প্রথম ১৮ দিনে মাত্র ৯ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। এই গতিতে রাজস্ব আদায় হলে মে মাসে রাজস্ব আদায় হতে পারে ১৬ হাজার ২৫২ কোটি টাকা যেখানে গত বছরের মে মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছিল প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা। এ সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধিসহ আদায় হলে অন্তত ৩৫ হাজার কোটি টাকা আদায়ের কথা ছিল। প্রবৃদ্ধিসহ আদায় হলে প্রথম ১৮ দিনে প্রায় ২০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আদায় হতো। সে হিসাবে ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারানোর পর টনক নড়ল সরকারের।
অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা।জানতে চাইলে এনবিআরের সাবেক সদস্য (আয়কর নীতি) ড. সৈয়দ আমিনুল করিম চট্টলা’২৪কে বলেন, রাজস্বের ওপর বিরাট নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আলোচনায় সমাধান হবে। যৌক্তিক সমাধান হলে এনবিআর কর্মকর্তারা এই রাজস্ব ঘাটতি পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের মতামত উপেক্ষা এবং সংস্কার কমিটির সুপারিশ প্রকাশ না করে নজিরবিহীনভাবে দ্রুততা ও গোপনীয়তার সঙ্গে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এই সংস্কারের উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে এরই মধ্যে রাজনৈতিক, ব্যবসায়ীমহল, পলিসি থিংকট্যাংকসহ বিভিন্ন মহল প্রশ্ন তুলেছে।

আরো বলা হয়েছে, রাজস্বব্যবস্থা সংস্কারের নামে ৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এনবিআরকে বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়েছে কোনো কারণ ছাড়াই। যেখানে রাজস্ব এজেন্সিকে সংস্কারের মাধ্যমে শক্তিশালী করা প্রয়োজন, সেখানে এটিকে বিলুপ্ত করে রাজস্ব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে দুটি বিভাগ সৃষ্টি করা হচ্ছে; যা রাজস্ব ব্যবস্থাপনার আন্তর্জাতিক রীতিনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

আন্দোলনকে বিভিন্ন ট্যাগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে বানোয়াট ও অসত্য প্রচারণা চালাচ্ছে একটি মহল। এই আন্দোলন পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের সৃষ্টি—এমন গুজব রটানোর অপচেষ্টা আমরা দেখছি। আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, এই আন্দোলন স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণকারী সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর। মিথ্যা ট্যাগিং দিয়ে ও গুজব ছড়িয়ে এই যৌক্তিক আন্দোলনকে নস্যাৎ করা যাবে না বরং এতে আন্দোলন আরো বেগবান হবে।

আন্দোলনে সাময়িক অসুবিধার জন্য করদাতা ও সেবাপ্রার্থীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে ঐক্য পরিষদ। বলা হয়েছে, আমরা রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা আলাদা করার পক্ষে। কিন্তু সেটি হতে হবে বাস্তবমুখী, অংশীজনের মতামতভিত্তিক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সর্বোচ্চ মূল্যায়নের মাধ্যমে। দাবি আদায় হলে নির্ধারিত অফিস সময়ের বাইরে অতিরিক্ত সময়ে কাজ করে এনবিআরের অনিষ্পন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

ডেস্ক নিউজ/চট্টলা’২৪/হহ

 

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

১৫ সেপ্টেম্বরের পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে: প্রতিমন্ত্রী

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য...

এ দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়, সবাই বাংলাদেশি’: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এ দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী...

সীমান্ত হত্যা ও পুশ ইন বন্ধে বিজিবিকে আরও কার্যকর হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

সীমান্তে চোরাচালান, মাদকপাচার, পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে...