স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের চাঁনপাড়া গ্রাম কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়ে গেছে। একটি সেতু ও কাঁচা সড়কের অভাবে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কয়েক হাজার বাসিন্দাকে।
গ্রামের প্রধান সড়কের মাঝখানে একটি খাল থাকলেও সেখানে কোনো সেতু নেই। ফলে বছরের বেশিরভাগ সময় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হয় স্থানীয়দের। বর্ষা মৌসুমে খালের পানি বাড়লে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, তখন নৌকাই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সামান্য বৃষ্টিতেই কাঁচা সড়ক কাদায় ডুবে যায়। এতে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক সময় বই-খাতাও নষ্ট হয়ে যায়। জরুরি রোগী হাসপাতালে নিতে গিয়েও বিপাকে পড়তে হয় পরিবারগুলোকে।
গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাঁটা কঠিন হয়ে পড়ে, পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন রাবেয়া বেগমও। তাঁর অভিযোগ, যোগাযোগ ব্যবস্থার এমন দুরবস্থার কারণে অনেকেই এই গ্রামের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক করতে আগ্রহ দেখান না।
যানবাহন চলাচল না থাকায় স্থানীয়দের ভরসা হাঁটা বা ঘোড়ার গাড়ি। এতে কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও বাড়তি খরচ ও সময় লাগছে। ফলে কৃষকেরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, নির্বাচন এলেই প্রার্থীরা সড়ক ও সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায় না। ফলে বছরের পর বছর একই অবস্থায় পড়ে আছে গ্রামটি।
মোকনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নাগরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী ইফতেখার সারোয়ার ধ্রুব বলেন, জনদুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে কবে নাগাদ সেতু ও সড়ক নির্মাণ হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় অনিশ্চয়তায় রয়েছেন চাঁনপাড়ার বাসিন্দারা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই অবস্থা থেকে দ্রুত মুক্তি দিতে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেবে কর্তৃপক্ষ।
সাব্বির/চট্টলা ২৪

