আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত সমঝোতার বিস্তারিত এখনও প্রকাশ না হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে—এমন আশঙ্কায় বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৬ সেন্ট বা ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৮৩ দশমিক ৪২ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪৬ সেন্ট বা ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮১ দশমিক ১২ ডলারে উঠেছে।
এর আগে সোমবার (১৫ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নিরসনে একটি সমঝোতা হওয়ার ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। সে সময় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৩ দশমিক ৭০ ডলারে নেমে আসে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা নিয়ে এখনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অস্পষ্ট রয়ে গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ কারণেই তেলের বাজারে ফের ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, নথিটিতে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf।
একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে এই নথিতে স্বাক্ষর করতে চেয়েছিলেন, যাতে সংঘাত নিরসন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করার প্রতি তাঁর অঙ্গীকার স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
তবে সমঝোতার পূর্ণাঙ্গ শর্তাবলি এখনও প্রকাশ না হওয়ায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আগামী দিনগুলোতেও ওঠানামা করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
সাব্বির, চট্টলা২৪

