যুদ্ধ বন্ধ করে স্থায়ী সমঝোতার পথে এগোতে সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনের নতুন উদ্যোগ শুরু হলো।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ঐতিহাসিক ভার্সাই প্রাসাদে অবস্থানকালে সমঝোতা স্মারকে সই করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এটি সই হয়েছে। আমি মাত্রই ভার্সাইয়ে এতে সই করেছি।”
জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে বর্তমানে ফ্রান্স সফরে রয়েছেন ট্রাম্প। এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ট্রাম্পের স্বাক্ষরের একটি ভিডিও প্রকাশ করে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তিতে সই সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও বৃহস্পতিবার সমঝোতা স্মারকে সইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে বলেন, প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের মাধ্যমে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। এখন এর বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা যাচাইয়ের সময়।
তিনি জানান, দুই দেশের প্রেসিডেন্ট নিজ নিজ অবস্থান থেকে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে নথিতে সই করেছেন। এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা নেই।
এর আগে সুইজারল্যান্ডের লুসার্ন হ্রদের তীরবর্তী একটি বিলাসবহুল হোটেলে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই দুই দেশ এতে সই সম্পন্ন করেছে।
সমঝোতা প্রক্রিয়ার মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “চুক্তিটি এখনই কার্যকর হবে।”
১৪ দফার এই সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের ওপর আরোপিত কিছু আর্থিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা বলা হয়েছে। ভবিষ্যৎ আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে নথিতে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর এখন দুই দেশের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে ৬০ দিনের আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সাব্বির, চট্টলা২৪

