বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শীর্ষ ১০ শিল্পগ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে সরকার

দেশের শীর্ষ ১০ শিল্পগ্রুপের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, দুর্নীতি, কর ও শুল্ক ফাঁকি, প্রতারণা এবং জালিয়াতির অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে সরকারের গঠিত যৌথ তদন্ত দল। প্রাথমিকভাবে অর্থ পাচার, কর ফাঁকি ও দুর্নীতির অভিযোগে এসব গ্রুপের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১১টি সংস্থার সমন্বিত তদন্ত শেষে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

তদন্তের আওতায় থাকা শিল্পগ্রুপগুলো হলো- এস আলম, বেক্সিমকো, নাবিল, সামিট, ওরিয়ন, জেমকন, নাসা, বসুন্ধরা, সিকদার ও আরামিট। গ্রুপগুলোর পাশাপাশি তাদের শীর্ষ ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত আর্থিক কর্মকাণ্ডও তদন্তের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন মামলা করার সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, যৌথ তদন্ত দল অভিযোগগুলোর অনুসন্ধান করে প্রমাণ পেয়েছে। এখন আদালতে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করে দেওয়ানি মামলা করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্তের মূল দায়িত্ব পালন করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পুরো কার্যক্রম সমন্বয় করেছে বিএফআইইউ এবং আইনি সহায়তা দিয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ আইন ও অর্থ পাচার প্রতিরোধ বিধিমালার আওতায় তদন্ত পরিচালনা করা হয় এবং পুরো প্রক্রিয়ায় গোপনীয়তা কঠোরভাবে বজায় রাখা হয়েছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত বছরের ২ ডিসেম্বর বিএফআইইউকে যৌথ তদন্তের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে ৬ জানুয়ারি তদন্তের নেতৃত্ব ও কার্যপদ্ধতি চূড়ান্ত করা হয়। তদন্তে ব্যাংক ঋণ গ্রহণ, ঋণের ব্যবহার, অর্থের গতিপথ, কর ও শুল্ক পরিশোধ, বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছে।

ইতোমধ্যে তদন্তাধীন অধিকাংশ শিল্পগ্রুপের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে বিএফআইইউ। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে থাকা সম্ভাব্য সম্পদের তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকের পর অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সভাপতি মাসরুর আরেফিন জানিয়েছেন, যেসব ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোকে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তাঁর মতে, আইনি প্রক্রিয়ায় এসব অর্থ ফেরত আনতে সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।

ফারুক, চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আরও এক শিশুর মৃত্যু

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।...

চবি’র ছাত্রী হলগুলোতে ডিপ ফ্রিজ দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নারী শিক্ষার্থীদের আবাসিক পাঁচটি হলে ডিপ...

শুল্কমুক্ত ২৩.৬ টন কাপড় উধাও, রাজস্ব ফাঁকি ১ কোটি ৩ লাখ টাকা

রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা...

চুনতিতে বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রিফ্রেশ বাংলাদেশ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নে সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ি...