মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজি নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও আন্দোলনের মধ্যেই ভারতের বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস চক্রের অন্যতম সন্দেহভাজন মূলহোতা বিজেন্দ্র গুপ্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরেই তাকে খুঁজছিল মহারাষ্ট্র পুলিশ। শনিবার সকালে বিহারে যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, বিজেন্দ্র গুপ্ত শুধু মহারাষ্ট্রের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নয়, দেশজুড়ে একাধিক সরকারি পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত একটি সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বৃহত্তর নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে ধারণা তদন্তকারীদের।
গত ২৮ জুন মহারাষ্ট্রে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষার আগের দিন প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠায় তা বাতিল করা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত জোরদার করে মহারাষ্ট্র পুলিশ।
তদন্তে উঠে আসে, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিজেন্দ্রের স্ত্রীসহ কয়েকজন সহযোগীকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে অবস্থান বারবার পরিবর্তন করায় বিজেন্দ্রকে ধরতে পারছিল না পুলিশ। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহারাষ্ট্রের থানে জেলার ভিওয়ান্ডি থানার পুলিশ ও বিশেষ তদন্ত দল বিহারে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইন্দ্রজিৎ সিং ওরফে পিকুকেও আটক করা হয়।
তদন্তকারীদের তথ্যমতে, গত ৫ জুলাই আগ্রার একটি প্রিন্টিং প্রেসের তিন কর্মী—নরেশকুমার মহোরে, সঞ্জয়কুমার সুরেশচন্দ্র চন্দ্র এবং বাবুলাল নারায়ণসিংহ কুশওয়াহাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ছাপাখানা থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁস করেন নরেশকুমার মহোরে। পরে সেটি প্রাক্তন কর্মী সঞ্জয়কুমার শর্মা ও অভিযুক্ত সোনু কুমারের মাধ্যমে বিজেন্দ্র গুপ্তের কাছে পৌঁছায়। এরপর বিজেন্দ্র তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে দিতেন।
গ্রেপ্তারের পর বিজেন্দ্র গুপ্তকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিমানে করে পুনে হয়ে ভিওয়ান্ডিতে নেওয়া হচ্ছে। তদন্তকারীদের আশা, তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেশজুড়ে সক্রিয় প্রশ্নফাঁস চক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, অর্থ লেনদেন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের পরিচয় উদঘাটন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ঘটে যাওয়া অন্যান্য প্রশ্নফাঁসের ঘটনার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হবে।
সাব্বির, চট্টলা২৪

