বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতেই মিলল বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক

বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতেই ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। পরীক্ষায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে সর্বনিম্ন ২০টি থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে ‘মেডিপ্লাস ফ্লুরিড জেল’ টুথপেস্টে।

পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) দীর্ঘ এক বছরব্যাপী গবেষণা শেষে রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীতে নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করে।

এসডো জানায়, গবেষণার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকার ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর জরিপ পরিচালনার পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালানো হয়। পরীক্ষায় স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি এবং ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড (FTIR) স্পেকট্রোস্কোপি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, পরীক্ষা করা বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫টি টুথপেস্টের মধ্যে ২২টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এছাড়া ভারতে উৎপাদিত ৫টির মধ্যে ১টি, থাইল্যান্ডের ২টির মধ্যে ১টি এবং ভিয়েতনামের ২টি টুথপেস্টের দুটিতেই ক্ষতিকর এই উপাদান শনাক্ত হয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, শিশুদের জন্য তৈরি ৬ ধরনের টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতেই বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক যেসব টুথপেস্টে

প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে শনাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংখ্যা—

  • মেডিপ্লাস ফ্লুরিড জেল — ৩২০টি
  • ক্লোজ আপ রেড হট — ১৬০টি
  • ক্লোজ আপ মেন্থল ফ্রেশ — ১৬০টি
  • কুডুমু আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা (স্ট্রবেরি) — ১৪০টি
  • সিগন্যাল গ্রিন টি — ১২০টি
  • পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট — ১০০টি
  • হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার — ১০০টি
  • সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্ট — ৮০টি

শিশুদের টুথপেস্টে যা পাওয়া গেছে

শিশুদের ব্যবহৃত টুথপেস্টের মধ্যে—

  • কুডুমু আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা — ১৪০টি
  • মেরিল বেবি স্ট্রবেরি — ৬০টি
  • মেরিল বেবি অরেঞ্জ — ৪০টি
  • পেপসোডেন্ট কিড অরেঞ্জ — ২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।

যেসব টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি

তবে গবেষণায় কিছু ইতিবাচক তথ্যও উঠে এসেছে। এসডোর পরীক্ষায় বাংলাদেশে উৎপাদিত জেনফ্রেশ, প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো) এবং ক্লোজ আপ রেড হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজি টুথপেস্টে কোনো শনাক্তযোগ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।

এছাড়া শিশুদের জন্য আমদানিকৃত কুডুমু অরেঞ্জ টুথপেস্টেও শনাক্তযোগ্য মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে এসডো।

সাব্বির, চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...

চট্টগ্রামে বিয়ে শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, নারীসহ নিহত ২

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার...

ডেঙ্গুতে অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু, মৃত প্রসব হলো প্রথম সন্তান

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর...